কপাল দোষে কখনো কখনো এমন রূপসী মায়াময়ী মেয়ে কেরানির ঘরে জন্ম নেয়। যৌতুক দেবার সামর্থ্য তাঁর ছিল না, বিয়ে নিয়ে বড় কোনো প্রত্যাশাও ছিল না তাঁর, না ছিল কোনো ধনী, সম্ভ্রান্ত ব্যক্তির সাথে চেনা-জানা, মন দেওয়া-নেওয়া, ভালোবাসা বা বিয়ের উপায়; তাই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ছাপোষা কেরানির সাথে তাঁর বিয়ের প্রস্তাব এলে, সে বিয়েতে মত দিয়ে দেয়। বিস্তারিত পড়ুন
ও হেনরীর ছোট গল্প – বিশ বছর পরে
পেশাগত গাম্ভীর্য নিয়ে পুলিশ অফিসারটি তাঁর টহল পথে পা ফেলে এগিয়ে চলেছে। মানুষকে দেখানোর জন্য নয়, এই গাম্ভীর্যটা তাঁর অভ্যেস, কেননা আশেপাশে দেখবার মতো তেমন কেউ ছিল না। সময় বেশি হয় নি, বড় জোর রাত দশটা, কিন্তু তীব্র আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া আর হালকা বৃষ্টির জন্য রাস্তাটা জনশূণ্য হয়ে পড়েছে।
পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক একটা দরজা পরখ করে দেখছিল সে, কখনো কখনো তাঁর হাতের লাঠিটি দুর্বোধ্য ও বেয়াড়াভাবে আন্দোলিত হচ্ছিল, ইতস্ততভাবে ঘাড় ফিরিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছলি প্রশান্ত রাজপথকে, তিনি অফিসার, তাঁর স্থিরপ্রতিজ্ঞ মূর্তি ও মৃদু হামবড়াভাব সব মিলিয়ে শান্তির দেবদূতের সুন্দর একটা প্রতিচ্ছবি যেন ফুটে উঠেছে। মাঝে মাঝে দুই একটা চুরুট স্টোর বা সারা রাত্রী খোলা খাবারের দোকানের আলো চোখে পড়ে, কিন্তু অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের দড়জা। বিস্তারিত পড়ুন
জহির রায়হান
জহির রায়হান
প্রথম প্রথম কাউকে মরতে দেখলে ব্যথা পেতাম। কেমন যেন দুর্বল হয়ে পড়তাম। কখনও চোখের কোণে একফোঁটা অশ্রুও হয়ত জন্ম নিত। এখন অনেকটা সহজ হয়ে গেছি। কী জানি, হয়ত অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে। তাই মৃত্যুর খবর আসে। মরা মানুষ দেখি। মৃতদেহ কবরে নামাই। পরক্ষণে ভুলে যাই।
রাইফেলটা কাঁধে তুলে নিয়ে ছোট্ট টিলাটার ওপরে এসে দাঁড়াই। সামনে তাকাই। বিরাট আকাশ। একটা লাউয়ের মাচা। কচি লাউ ঝুলছে। বাতাসে মৃদু দুলছে। কয়েকটা ধানক্ষেত। দুটো তালগাছ। দূরে আর একটা গ্রাম…….
এই লাইনগুলো জহির রায়হানের গল্প “সময়ের প্রয়োজনে” থেকে নেয়া। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা এই গল্পে কী সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন সেই রক্তঝরা দিনগুলোর দৃশ্যকাব্য! এমনই সহজ, সাবলীল ও কাব্যময় উপস্থাপনায় চিরঞ্জীব তাঁর গল্প, উপন্যাস এবং চলচ্চিত্র। বিস্তারিত পড়ুন
সুখ
১.
চালকুমড়ার পাতা আর সরিষা দিয়ে শাকের বড়া বানিয়েছিল হালিমা বেগম। বাড়ির পিছনের জঙ্গল থেকে হেলেঞ্চা, কলমি আর কচুর কচিপাতা কুঁড়িয়ে এনে পাঁচমিশালী শাক রান্না করেছিল। দুটোই খুব পছন্দ করে সেলিম। বেচারার আর তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া হল না। ওকে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেডমাস্টার সাহেব বাড়ির উপর এসে এমন তাগাদা দেওয়া শুরু করল, কোনো রকমে নাকে মুখে খেয়ে মাস্টার সাহেবের সাথে বেরিয়ে পড়ল। ওদের পিছে পিছে বাহির বাড়ি পর্যন্ত এলো হালিমা বেগম। সাথে সাথে এলো তাঁর ছয় বছর বয়সের মেয়ে হাফসা। যতক্ষণ পর্যন্ত ছেলের আবছা ছায়া দেখা যায়, ততক্ষন পর্যন্ত তাঁকিয়ে থাকল সে। এরপর আঁচলে চোখ মুছে দীর্ঘশ্বাস ফেলল হালিমা বেগম। বিস্তারিত পড়ুন
ও. হেনরীর ছোট গল্প : দি লাস্ট লিফ
ওয়াশিংটন স্কয়ারের পশ্চিমে এক ছোট জেলা, যেখানে রাস্তাগুলো অনিরাপদভাবে ছুটে চলেছে এবং ভেঙে ভেঙে নিজেদের ভিতরে ছোট ছোট ‘গলি’ তৈরী করেছে। এই গলিগুলোতে গড়ে উঠেছে অদ্ভুত সব কোণা কানছি আর বাঁক। একটি রাস্তা নিজের উপর দিয়ে এক দুইবার করে অতিক্রম করে গেছে। একবার এক চিত্রশিল্পী এই রাস্তাটির মাঝে এক মূল্যবান সম্ভাবনা আবিষ্কার করে বসলেন। মনে করুন, একজন সংগ্রাহক রঙ, কাগজ এবং ক্যানভাসের জন্য বিল সাথে নিয়ে এই পথের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎকরে দেখল সে আগের জায়গায়ই ফিরে এসছে, এর জন্য তাকে এক পয়সাও খরচ করতে হয় নি!
তাই, চিত্রশিল্পীরা খুব তাড়াতাড়ি ঘুরতে ঘুরতে এই অদ্ভুত পুরনো গ্রিনিচ গ্রামে চলে এল, খুঁজে বের করল উত্তর দিকের জানালাসহ আঠার শতকের পুরনো গ্যাবল (ডাচ গ্যাবল জ্যাকোবিয়ান সময়ের ইংল্যান্ডের বিশেষ স্থাপত্যের বাড়ী), কম ভাড়ায় এক ডাচ চিলেকোঠা। এরপর তাঁরা ছয় নম্বর এভিনিউ থেকে রান্না করা ও খাবার গরম রাখার জন্য চুল্লিযুক্ত দুই একটি পাত্র এবং কিছু পিউটর মগ নিয়ে এসে এখানে কলোনি গড়ল। বিস্তারিত পড়ুন
দি গড অব স্মল থিংস, অরুন্ধতী রায়
১৯৯৭ সালে লেখা “দি গড অব স্মল থিংস” অরুন্ধতী রায়ের প্রথম এবং এখন পর্যন্ত একমাত্র উপন্যাস। ১৯৯৭ সালেই তিনি এই উপন্যাসের জন্য সম্মানজনক বুকার পুরস্কার লাভ করেন। অরুন্ধতী রায় বাস্তবজীবনে খুব অনুভূতিশীল মানুষ, মানুষের দুঃখে কেঁদে ওঠেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য ভারতের এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়ান। বুক ফুলিয়ে অবলীলায় যা সত্য তাই বলে দেন। তাঁর আত্নজীবনীমূলক এই উপন্যাসেও তার ব্যতিক্রম খুঁজে পাওয়া যায় নি। মানুষের হাসি, আনন্দ, দুঃখ, কষ্ট, ভালোবাসা, বিরহ, ঘৃণা প্রভৃতি সব মানবিক ব্যাপারগুলোকে খুব সূক্ষভাবে দেখার একটা অদ্ভুত গুন আছে তাঁর মাঝে। এই উপন্যাসে মানব জীবনের ছোট ছোট মূহুর্তগুলোকে ছোট ছোট করে হৃদয়গ্রাহীভাবে তিনি তুলে ধরতে পেরেছেন সুনিপুণ মুন্সিয়ানায়। অতীত ও বর্তমানকে নিয়ে যুগপৎভাবে পথ চলে পাঠককে একটা ঘোরের মধ্যে মোহিত করে রেখেছেন তিনি তাঁর লেখার জাদুতে। বর্ণবাদ, সমাজতন্ত্র, পুজিবাদ, প্রেম, প্রতিশোধ, দুই জমজ শিশুর দুঃখময় বেড়ে উঠা, একে অপরের প্রতি তাদের ভালোবাসা, সব ঘটনাপ্রবাহ মিশেছে যেন এক মোহনায়। বিস্তারিত পড়ুন
ও. হেনরীর ছোট গল্প : দি গিফট অব দি মেজাই
এক ডলার সাতাশি সেন্ট। এটুকুই সব। এর মধ্যে ষাট সেন্ট আছে পেনিতে। একেক সময়ে একটি দুইটি করে পেনি বাঁচানো হয়েছে মুদি দোকানী, সবজী বিক্রেতা আর কশাইয়ের সাথে তীব্র দর কশাকশি করে, এমন করেই পুঙ্খানুপুঙ্খ লেনদেন চলেছে সব সময়, যতক্ষন পর্যন্ত না মনে মনে কৃপণ ঠাওরে তাদের মুখ আরক্তিম হয়ে উঠেছে। ডেলা তিনবার গুনে দেখেছে। এক ডলার সাতাশি সেন্ট। অথচ পরের দিন ক্রিসমাস।
মলিন ছোট আরাম কেদারাটার উপর এগুলো ছুড়ে ফেলে চিৎকার করে কান্না কাটি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ডেলা তাই করল। এটা মানুষের নৈতিক অভিব্যক্তিকে এমনভাবে প্ররোচিত করে যেন, জীবনটা ফুঁপিয়ে কাঁদা, দীর্ঘ শ্বাস আর মৃদু হাসির সম্মিলনে গড়া, যেখানে দীর্ঘ শ্বাসটাই বেশি প্রবল। বিস্তারিত পড়ুন
শ্রাবণের দ্বিতীয় দিবস
দুপুর থেকেই ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। থামার কোনো লক্ষণ নেই। থেকে থেকে বৃষ্টির তেজ যেন বাড়ছে। অবশ্য সকাল থেকেই আকাশ মেঘে ঢাকা পড়েছিল। বৃষ্টি হবে হবে করে পরিবেশটাকে গুমোট করে তুলেছিল, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল ভ্যাঁপসা গরম। সকালে ঘুম থেকে ওঠে হটাৎকরেই নিজের মাঝে একটা বিষন্নতাবোধ আবিষ্কার করে শফিকুল। কেন এমন লাগছে, নিজেকে দুঃখপ্রিয় মনে হচ্ছে; মনের মাঝে হাতড়ে ফিরেও কারন খুঁজে পায় না সে। বিস্তারিত পড়ুন
ঠিক ঠাক চলছে
সব কিছু ঠিক ঠাক চলছে,
নিয়ম করে পৃথিবী ঘুরছে,
সূর্য ডুবছে,
চাঁদ উঠছে,
ফুল ফুটছে,
বাতাসে দুলছে। বিস্তারিত পড়ুন
একজন শহর আলীর গল্প
১.
শহর আলীর পৃথিবীটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। এদিকটায় কেউ আর আসে না, পথ ভুল করেও না। চারপাশের মানুষগুলো জীবনের তাগিদে অহর্ণীশ ছুটে চলছে।কখনো নতুন জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর আগমনী কান্নার সুর ভেসে আসে। কখনো বা আসে সদ্য কোনো মৃতের আত্নীয়ের বিরহ বিলাপ। শহর আলীর যেন কোনো ভাবান্তর নেই। কোনো কিছুই তাঁর মনকে আর ছুঁতে পারে না। নিজেকে জীবিত বা মৃত, কিছুই ভাবতে ইচ্ছে করে না। বিস্তারিত পড়ুন









