মনসামঙ্গল কাব্য

মঙ্গল কাব্যধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাব্য মনসামঙ্গল। সর্পদেবী মনসার মাহাত্ন্য, স্তুতি ও কাহিনি নিয়ে রচিত মনসামঙ্গল। একে মনসাবিজয় বা পদ্মপুরাণ নামেও অভিহিত করা হয়। আবহমান কাল থেকেই বাংলাদেশ নদীনালা, খালবিল, জলাশয়ে ভরা। গ্রাম বাংলার সর্প ভয়ে ভীত সাধারণ মানুষের কাছে মনসামঙ্গল শ্রী চৈতন্যপূর্ব যুগ থেকেই ব্যপকভাবে সমাদৃত। চাঁদ সওদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা মেনে পূজো দেওয়াই এই কাব্যের প্রধান আখ্যান হলেও, এর মাঝে বাংলার প্রাকৃতিক জীবন, লৌকিক জীবনাচার উঠে এসেছে। চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর যেন আমাদের খুব কাছের কেউ, আমাদেরই একজন। চাঁদ সওদাগরের পুত্র বাৎসল্য, বেহুলার পতিপ্রেম অতি মানবীয়ভাবে উঠে এসেছে এই কাব্যে।

কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন

অন্নদামঙ্গল কাব্য

১.
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

২.
নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়।

৩.
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।

৪.
বড়র পিরীতি বালির বাঁধ,
ক্ষনে হাতে দড়ি ক্ষনেকে চাঁদ।

৫.
অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ,
কোন গুন নাই তার কপালে আগুন।

৬.
না রবে প্রাসাদ গুন নাহবে রসাল,
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশান।

উপরের জনপ্রিয় উদ্ধৃতিগুলো কম বেশি আমরা সবাই জানি। এই উদ্ধৃতিগুলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি মঙ্গল কাব্যধারার ‘অন্নদামঙ্গল কাব্য’ থেকে নেওয়া। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ কবি, নাগরিক কবি ভারতচন্দ্রঁ রায়গুনাকরের অসাধারন শিল্পকর্ম এই অন্নদামঙ্গল কাব্য। বিস্তারিত পড়ুন

কমরেডের হাত

হাত
শ্রমিকের হাত
ঘামে ভেজা শ্রমিকের হাত।
দেশকে এগিয়ে নিয়ে চল তুমি
সয়ে শত প্রতিঘাত
প্রতিঘাত।।

হাত
কৃষকের হাত
সোঁদা গন্ধমাখা কৃষকের হাত।
মানুষকে অন্ন যুগিয়ে চল তুমি
নিয়ে দারিদ্রের অভিসম্পাত
অভিসম্পাত।। বিস্তারিত পড়ুন

অনুরাধা


মনে আছে তোমার
দেবাশিষ আর হিমাদির কথা?
মনে পড়ে তোমার?
ঢাকা হলের ইট বাঁধানো পুকুড় ঘাটে
কত খুঁনসুটি হত ওঁদের
হল থেকে রান্না করা খাবার নিয়ে
হিমাদি খাওয়াতো দেবুদাকে।
তোমারও খুব শখ ছিল
আমি হিমাদি হই
আর তুমি দেবুদা। বিস্তারিত পড়ুন

গল্পঃ পাশবিক আমিত্ব

কয়দিন ধরে শীত জেকে বসেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উত্তরীয় হাওয়ার হাড়ে কাঁপন লাগানো প্রবাহ। সূর্যী মামা কয়েক মুহুর্ত তার লাজুক মুখখানা দেখিয়ে কোথায় যে পালায়! গত কয়দিন ধরে টিউশনিতে যাই নি। আজ না গেলে পকেট খরচের বিলাসী উৎসটা বন্ধ হয়ে যাবে, এই ভয়ে বের হয়েছি। খুব বিরক্তি আর মেজাজ খারাপ লাগছে। আগে তো শাহবাগের মোড় থেকেই বাসে উঠতাম, এখন অনেক দূর হেঁটে গিয়ে আজিজ মার্কেটের সামনে থেকে উঠতে হয়। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট। এক ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি বাসের দেখা নেই। বিস্তারিত পড়ুন

কাশফুল

গল্পঃ কাশফুল কন্যা

১. নেয়ামতপুর গ্রামের গল্প। এটি বাংলাদেশের আর পাঁচ দশটা গ্রামের মত নয়। ভারতীয় সীমানা ঘেঁষে এর অবস্থান। উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগে নি। মানুষগুলো খুবই সাধা-সিধা, সহজ-সরল। এক জনের হাড়িতে চাল না থাকলে, আরেক জন যতটুকু পারে সাহায্য করে। এক জনের দুঃখে আরেক জন এগিয়ে আসে। এক জনের আনন্দ সবাই মিলে উপভোগ করে। মানুষগুলো সবাই কমবেশি অভাবি, কিন্তু সুখি। বিস্তারিত পড়ুন

চর্যাপদ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। তবে অসমীয়া ও উড়িয়া ভাষার সাথে অনেক মিল থাকায়, অসমীয়া এবং উড়িয়া ভাষারও আদি নিদর্শন হিসেবে দাবী করেন অনেক ভাষা পন্ডিত। একে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি নামেও অভিহিত করা হয়। এটা আসলে একটা গানের সংকলন। বৌদ্ধ ধর্মমতে এর বিষয়বস্তু সাধন ভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাপদের তিব্বতীয় ভাষার অনুবাদটি ‘Tibetan Buddhist Canon’ বা ‘তিব্বতীয় বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ’ হিসেবে সংরক্ষিত।

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রয়েল লাইব্রেরী থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয় ‘হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায়। এর রচনাকাল সম্পর্কে মতভেদ আছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে, ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এর পদগুলো রচিত হয়। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পন্ডিতই ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে সমর্থন করেন।

চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে। সুকুমার সেন ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (১ম খন্ড)’ গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন। চর্যাপদের কবিরা আসাম, বাংলা, উড়িষ্যা ও বিহার থেকে এসেছেন বলে ধারনা করা হয়। বিস্তারিত পড়ুন