মীর জাফর, ঘষেটি বেগম গংদের ষড়যন্ত্রের কারনে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় ব্রিটিশ বেনিয়াদের কাছে। সেই ২৩ জুন থেকেই আবার শুরু হয় চির স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, ফরায়েজী আন্দোলন, শহীদ তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা নির্মান করে প্রতিরোধ যুদ্ধ, ১৯৪৭ সালের ভারত-ভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬৬ এর ছয় দফা, ১৯৬৯ এর গন-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচনে বিজয়, ১৯৭১ এর রক্তঝরা মার্চের অসহযোগ আন্দোলন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের গন-হত্যা ও ইপিআরের প্রতিরোধ; এভাবেই ধাপে ধাপে এগিয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম।
২৬ মার্চ, ১৯৭১ বা ২৭ মার্চ, ১৯৯৭১ থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম শুরু হয় নি। এর রয়েছে সুদীর্ঘ পটভূমি, দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস। এই সংগ্রামের সাথে জড়িত ছিলেন তিতুমীর, হাজি শরীয়তুল্লাহ, দুদুমিয়া, নেতাজী সুভাষ চন্দ্র বসু, শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, কাজী নজরুল ইসলাম, মাষ্টারদা সূর্যসেন, বিপ্লবী প্রীতিলতা, ক্ষুদিরাম, হোসেইন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা ভাসানী, জাতীয় চারনেতা সৈয়দ নজরুল ইসলাম, তাজ উদ্দীন আহমেদ, ক্যাপেটন মনসুর আলী, কামরুজ্জামান, আরো অনেক নেতা ও বিপ্লবী।
বাঙালির দীর্ঘদিনের স্বাধীনতার এই আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে স্বাধীনতার বন্দরে মুক্তিকামী বাঙালি জাতিকে নিয়ে গেছেন, তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।
বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষনা করেছেন এটা ইতিহাস স্বীকৃত, এর জন্য কোনো প্রমান দরকার হয় না। ইতিহাসের পাতায় পাতায় এর অনেক প্রমান রয়ে গেছে, তবুও দুঃখের বিষয় একটি গোষ্ঠী রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে একে মিথ্যা প্রমাণের জন্য দীর্ঘ দিন প্রচার প্রচারনা চালিয়ে আসছে। তারা ১৯৪৭ থেকে ১৯৭১, এই সুদীর্ঘ সময়ের ইতিহাসকে মুছে দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ২৭ মার্চ (অধুনা দাবী ২৬ মার্চ) ১৯৭১, মেজর জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠ দিয়ে শুরু বলে হাস্যকর প্রচারনা চালাচ্ছে। এ জন্য নতুন প্রজন্ম বিভ্রান্ত হচ্ছে। মুক্তিযুদ্ধের বিকৃত ইতিহাস জেনে বড় হচ্ছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার কিছু প্রামাণ্য দলিল উপস্থাপন করছি নতুন প্রজন্মের জন্য।
হাইকোর্টের রায়ঃ
২০০৯ সালের ২১ জুন, বিচারপতি বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক এবং বিচারপতি এম মমতাজ উদ্দিন আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই স্বাধীনতার ঘোষক বলে রায় দেন। রায়ে জোট সরকারের শাসনামলে প্রকাশিত ও মুদ্রিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ডকে স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পরিপন্থী বিবেচনায় সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করে এর প্রকাশনা, মুদ্রণ, বিক্রি ও বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়। হাইকোর্টের রায়ে ওই বইয়ের তৃতীয় খণ্ড বাজেয়াপ্ত বলে ঘোষণা করা হয়। ২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা এই খণ্ডে উল্লেখ ছিল, ‘…মেজর জিয়া স্বাধীনতা ঘোষণা করেন’।
রায়ের পর্যালোচনায় বলা হয়, মেজর জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বানিয়ে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহীদদের রক্তের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। বর্তমান প্রজন্মকে প্রকৃত ইতিহাসের জ্ঞান থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। দেশের ১৪ কোটি বাঙালির সঙ্গে ধোঁকাবাজি বা প্রতারণা করা হয়েছে। ২০০৪ সালে প্রকাশিত বইয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে যে মিথ্যা তথ্য প্রদান করা হয়েছে তা দেশ ও জাতির স্বার্থ পরিপন্থী ও গণবিরোধী কার্যক্রম।
উল্লেখ্য বিগত ১৯৮২ ও ২০০৩ সালে তথ্য মন্ত্রণালয়ের প্রকাশ করা ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও দলিলপত্র’কে ২০০৪ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় পরিবর্তন করে।
বাংলাদেশের সংবিধানঃ
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ দখলদারমুক্ত হওয়ার পর অত্যন্ত অল্প সময়ের ভিতর বঙ্গবন্ধুর সরকার এক অসাধারণ সংবিধান প্রণয়ন করেছিলেন যার ভিত্তি ছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রদত্ত স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র। সংবিধানের ১৫০ অনুচ্ছেদে এই ঘোষণাপত্র অনুমোদন করার ফলে এটি সংবিধানের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিনত হয়েছে।
সংবিধানে এ বিষয়ে বলা আছে-
“১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ হইতে এই সংবিধান-প্রবর্তনের তারিখের মধ্য প্রণীত বলিয়া বিবেচিত সকল আইন, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র বা যে কোনো আইন……বা কৃত সকল কার্য এতদ্দারা অনুমোদিত ও সমর্থিত হইল এবং তাহা আইনানুযায়ী যথার্থভাবে প্রণীত, প্রযুক্ত ও কৃত হইয়াছে বলিয়া ঘোষিত হইল”। (গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান, চতুর্থ তফসিল [১৫০ অনুচ্ছেদ])
স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রে বলা আছে-
“……বাংলাদেশের সাড়ে সাত কোটি মানুষের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জনগনের আত্ননিয়ন্ত্রণাধিকার অর্জনের আইনানুগ অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ ঢাকায় যথাযথভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং বাংলাদেশের অখণ্ডতা ও মর্যাদা রক্ষার জন্য বাংলাদেশের জনগনের প্রতি উদাত্ত আহবান জানান…..” (স্বাধীন স্বার্বভৌম গণ-প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ঘোষণাপত্র, ১০ এপ্রিল ১৯৭১, মুজিবনগর, বাংলাদেশ।)
বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণায় যা ছিলঃ
বঙবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হবার পূর্ব মুহূর্তে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ প্রথম প্রহরে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা স্বাক্ষর করে ইপিআরের ওয়ার্লেসের মাধ্যমে সারাদেশে প্রচারের জন্য আওয়ামী লীগের কয়েকজন বিশ্বস্ত নেতাকে নির্দেশনা দিয়ে যান।
যা ছিল সেই ঘোষণা-
Today Bangladesh is a sovereign and independent country. On Thursday night, West Pakistani armed forces suddenly attacked the police barracks at Razarbagh and the EPR headquarters at Pilkhana in Dhaka. Many innocent and unarmed have been killed in Dhaka city and other places of Bangladesh. Violent clashes between E.P.R. and Police on the one hand and the armed forces of Pakistan on the other, are going on. The Bengalis are fighting the enemy with great courage for an independent Bangladesh. May Allah aid us in our fight for freedom. Joy Bangla.
২৭ মার্চ জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠঃ
২৭ মার্চ, ১৯৭১ সালে মেজর জিয়াউর রহমান তৃতীয় পাঠক হিসেবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠ করেন।
সেই ঘোষণায় যা ছিল-
This is Shadhin Bangla Betar Kendro. I, Major Ziaur Rahman, at the direction of Bangobondhu sheikh Mujibur Rahman, hereby declare that the independent People’s Republic of Bangladesh has been established. At his direction, I have taken command as the temporary Head of the Republic. In the name of Sheikh Mujibur Rahman, I call upon all Bengalis to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our Motherland. By the grace of Allah, victory is ours. Joy Bangla.
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে ডকুমেন্টারিটি শুনুনঃ
বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৩৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে জার্মান বেতার ডয়েচে ভ্যালে কর্তৃক প্রচারিত ‘৩৫ বছরে বাংলাদেশ’ এর ১৬ তম ও শেষ পর্ব। এখানে খুব সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, কোন পরিস্থিতিতে মেজর জিয়া বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেছেন, কিভাবে স্বাধীনতা ঘোষনার ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে ও প্রকৃত স্বাধীনতার ঘোষক কে। লিংকটি শুনুন।
মার্কিন প্রশাসন, কংগ্রেস ও বিভিন্ন বিদেশী পত্রিকায় বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণার প্রচারঃ

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক ২৬ মার্চ, ১৯৭১ সালে হোয়াইট হাউসে প্রেরিত তথ্য; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের পূর্বাংশে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

১৯৭০ থেকে ১৯৭১ সালে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনার মার্কিন অপ্রকাশিত দলিলের কভার পেজ।

সেই দলিলে উল্লেখিত ২৬-২৭ মার্চ তারিখের ঘটনাবলি; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

মার্কিন সিনেটের ২৮ জুলাই, ১৯৭১ সালের কংগ্রেশনাল রেকর্ড; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।


মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট কর্তৃক অবমুক্ত করণ গোপণীয় দলিল, যেখানে বলা ২৬ মার্চ বঙবন্ধু শেখ মুজিবুরের নামে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা প্রচারিত হয়, পরবর্তীতে মেজর জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ মুক্তি বাহিনী গঠনের ঘোষণা দেন।

২৭ মার্চ, ১৯৭১ নিউ ইয়র্ক টাইমস; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

২৭ মার্চ, ১৯৭১ ওয়াশিংটন পোস্ট; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

২৭ মার্চ, ১৯৭১ টাইম; যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।

৫এপ্রিল, ১৯৭১ টাইম; বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক পটভূমি তুলে ধরা হয়েছে।
.jpg)
৫এপ্রিল, ১৯৭১ নিউজ উইক, যেখানে বলা হয়েছে শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছেন।
বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণঃ
বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চে বাঙালি জাতির জন্য ঐতিহাসিক এক দিক নির্দেশনামূলক ভাষণ দেন, যেখানে তিনি স্বাধীনতা সংগ্রামের জন্য বাঙালি জাতিকে প্রস্তুতি নেবার আহবান জানান।
তিনি ঘোষণা দেন, “তোমাদের কাছে আমার অনুরোধ রইলো, প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোল। তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে এবং জীবনের তরে রাস্তাঘাট যা যা আছে সবকিছু-আমি যদি হুকুম দেবার নাও পারি, তোমারা বন্ধ করে দেবে।……..এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম,এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”।
এর পরে আর কোন ঘোষনার বাকি থাকে কি?
কৃতজ্ঞতাঃ
১। মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান জালাল, এখানে ব্যবহৃত সব ছবি তাঁর কাছ থেকে নেওয়া।
২। ডয়েচে ভ্যালে বাংলা বেতার, জার্মান।
সূত্রঃ
১। শাহরিয়ার কবির, স্বাধীনতার ঘোষণাপত্রের ৩৭তম বার্ষিকী, একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি।
২। উইকিপিডিয়া।
wowowow………….অনেক সুন্দর লিখেছেন………
আমি মুক্তিযুদ্ধ সম্পকে যা কিছু পাই তাই পড়ি, পড়তে খুব ভাল লাগে ৭১ নিয়ে।
শুধু আশায় আছি রাজাকারের বাচ্চাদের কবে বিচার হবে……….
সুন্দর মন্তব্যের জন্য অনেক কৃতজ্ঞতা। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার নিয়ে আমিও খুব আশায় বুক বেঁধে আছি।
অনেক ভাল লাগল। অনেক কষ্টসাধ্য কাজ করেছেন।
যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হতেই হবে।
ভালো লেগেছে জেনে খুব খুশি হয়েছি। শুভেচ্ছা
সত্য তুলে ধরার জন্য অনেক ধন্যবাদ।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ ভাই। শুভেচ্ছা
লেখাটি অনেক তথ্যবহুল।আপনি যে লেখাটির পেছনে অনেক সময় ও শ্রম দিয়েছেন এবং আমাদের সামনে তা সুন্দর ভাবে উপস্থাপনের জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ।
যুদ্ধপরাধীদের বিচার অবশ্যই হবে… এই আশায় আমিও আছি।
ভালো থাকবেন।
আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। শুভ কামনা। ভালো থাকবেন