ও হেনরীর ছোট গল্প – বিশ বছর পরে

পেশাগত গাম্ভীর্য নিয়ে পুলিশ অফিসারটি তাঁর টহল পথে পা ফেলে এগিয়ে চলেছে। মানুষকে দেখানোর জন্য নয়, এই গাম্ভীর্যটা তাঁর অভ্যেস, কেননা আশেপাশে দেখবার মতো তেমন কেউ ছিল না। সময় বেশি হয় নি, বড় জোর রাত দশটা, কিন্তু তীব্র আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া আর হালকা বৃষ্টির জন্য রাস্তাটা জনশূণ্য হয়ে পড়েছে।

পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক একটা দরজা পরখ করে দেখছিল সে, কখনো কখনো তাঁর হাতের লাঠিটি দুর্বোধ্য ও বেয়াড়াভাবে আন্দোলিত হচ্ছিল, ইতস্ততভাবে ঘাড় ফিরিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছলি প্রশান্ত রাজপথকে, তিনি অফিসার, তাঁর স্থিরপ্রতিজ্ঞ মূর্তি ও মৃদু হামবড়াভাব সব মিলিয়ে শান্তির দেবদূতের সুন্দর একটা প্রতিচ্ছবি যেন ফুটে উঠেছে। মাঝে মাঝে দুই একটা চুরুট স্টোর বা সারা রাত্রী খোলা খাবারের দোকানের আলো চোখে পড়ে, কিন্তু অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের দড়জা। বিস্তারিত পড়ুন

সুখ

১.
চালকুমড়ার পাতা আর সরিষা দিয়ে শাকের বড়া বানিয়েছিল হালিমা বেগম। বাড়ির পিছনের জঙ্গল থেকে হেলেঞ্চা, কলমি আর কচুর কচিপাতা কুঁড়িয়ে এনে পাঁচমিশালী শাক রান্না করেছিল। দুটোই খুব পছন্দ করে সেলিম। বেচারার আর তৃপ্তি নিয়ে খাওয়া হল না। ওকে নিয়ে যাওয়ার জন্য হেডমাস্টার সাহেব বাড়ির উপর এসে এমন তাগাদা দেওয়া শুরু করল, কোনো রকমে নাকে মুখে খেয়ে মাস্টার সাহেবের সাথে বেরিয়ে পড়ল। ওদের পিছে পিছে বাহির বাড়ি পর্যন্ত এলো হালিমা বেগম। সাথে সাথে এলো তাঁর ছয় বছর বয়সের মেয়ে হাফসা। যতক্ষণ পর্যন্ত ছেলের আবছা ছায়া দেখা যায়, ততক্ষন পর্যন্ত তাঁকিয়ে থাকল সে। এরপর আঁচলে চোখ মুছে দীর্ঘশ্বাস ফেলল হালিমা বেগম। বিস্তারিত পড়ুন

শ্রাবণের দ্বিতীয় দিবস

দুপুর থেকেই ঝুম বৃষ্টি পড়ছে। থামার কোনো লক্ষণ নেই। থেকে থেকে বৃষ্টির তেজ যেন বাড়ছে। অবশ্য সকাল থেকেই আকাশ মেঘে ঢাকা পড়েছিল। বৃষ্টি হবে হবে করে পরিবেশটাকে গুমোট করে তুলেছিল, সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল ভ্যাঁপসা গরম। সকালে ঘুম থেকে ওঠে হটাৎকরেই নিজের মাঝে একটা বিষন্নতাবোধ আবিষ্কার করে শফিকুল। কেন এমন লাগছে, নিজেকে দুঃখপ্রিয় মনে হচ্ছে; মনের মাঝে হাতড়ে ফিরেও কারন খুঁজে পায় না সে। বিস্তারিত পড়ুন

একজন শহর আলীর গল্প

১.
শহর আলীর পৃথিবীটা ক্রমশ ছোট হয়ে আসছে। এদিকটায় কেউ আর আসে না, পথ ভুল করেও না। চারপাশের মানুষগুলো জীবনের তাগিদে অহর্ণীশ ছুটে চলছে।কখনো নতুন জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর আগমনী কান্নার সুর ভেসে আসে। কখনো বা আসে সদ্য কোনো মৃতের আত্নীয়ের বিরহ বিলাপ। শহর আলীর যেন কোনো ভাবান্তর নেই। কোনো কিছুই তাঁর মনকে আর ছুঁতে পারে না। নিজেকে জীবিত বা মৃত, কিছুই ভাবতে ইচ্ছে করে না। বিস্তারিত পড়ুন

গল্পঃ রূপার কাঁকন

১.
- ও ময়না! মেল টেরেন জাতিছে না কি রে! কিসের শব্দ হতিছে ভাল কইরে শুইনে দ্যাকদিনি!

চুলোতে শুকনো পাতা গুজে দিতে দিতে বলে চলে মমতা। লিচু গাছটার ছায়ায় বসে একমনে পুতুল খেলছে তাঁর চার বয়সী মেয়ে ময়না।
- দেকতি দেকতি কেমন কইরে দুটো বেঁইজে গেইল। কালের দিনে বেলা মেলা তাড়াতাড়ি ছুইটে যায়।

ময়না মায়ের দিকে জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে তাঁকায়।
-মা! আমারে কি ডাকিছেন?
-হ। তর কি বেশি খিদা লাগিছে? একনও তো ভাত ফুটে নাইরে মা! বিস্তারিত পড়ুন

জননী

জননী

১। আসাদের চিঠি এসেছে তিন দিন আগে। বেশ কয়েক দিনের ছুটি পেয়েছে। আগামী ২১ তারিখ, বৃহস্পতিবার বাড়ি আসবে। চিঠি পাওয়ার পর থেকেই ছালেহা বেগমের ছটফটানি শুরু হয়েছে। কবে যে ২১ তারিখ আসবে? বৃহস্পতিবার হতে আর কয় দিন বাকি?

ছেলেটা দেখতে দেখতে এত বড় হয়ে গেল। খুব বেশি দিন আগের কথা নয়; ছালেহা ভাবে। আসাদের বাবা করিম মিঞা উজানচর প্রাইমারি স্কুলের হেডমাস্টার। আসাদের বয়সই বা কত, পাঁচ কি ছয়? করিম মিঞা ছালেহা বেগমকে ডেকে বলল, বৌ আমাগের আসাদরে একটু সাঁজাইয়ে গুছাইয়ে দাও দিনি, ওরে স্কুলে নিইয়া যাই।

আসাদ পাড়ার ছেলেদের সাথে মার্বেল খেলছিল। ছালেহা বেগম ডাকল, আসাদ বাপ! শুইনে যা!
মায়ের ডাক শুনে দৌড়ে আসে আসাদ, মা! আমারে ডাকিছেন?
-হ। তোর বাপ কতিছিল তোরে স্কুলে নিইয়ে যাবি। তুই গোছল সাইরে নে।
মায়ের কথা শুনে আসাদের খুশি যেন আর ধরে না। লুঙ্গি, গামছা নিয়ে কল পাড়ের দিকে ছুটল গোছল করতে। গোছল শেষ হলে, ছালেহা নিজ হাতে জামা কাপড় পড়ালো, মাঝ বরাবর সিঁথি কেটে মাথার চুল আঁচড়ে দিল। আসাদ লক্ষী ছেলের মত ওর বাবার সাইকেলের পিছনের ছিটে দুই পা ঝুলিয়ে বসে পড়ল।
করিম মিঞা বলল, শক্ত কইরে ধরিস বাপ! পইড়ে যাতি পাড়স।
-না আব্বা! আমি শক্ত কইরে ধরিছি! বিস্তারিত পড়ুন

গল্পঃ পাশবিক আমিত্ব

কয়দিন ধরে শীত জেকে বসেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে উত্তরীয় হাওয়ার হাড়ে কাঁপন লাগানো প্রবাহ। সূর্যী মামা কয়েক মুহুর্ত তার লাজুক মুখখানা দেখিয়ে কোথায় যে পালায়! গত কয়দিন ধরে টিউশনিতে যাই নি। আজ না গেলে পকেট খরচের বিলাসী উৎসটা বন্ধ হয়ে যাবে, এই ভয়ে বের হয়েছি। খুব বিরক্তি আর মেজাজ খারাপ লাগছে। আগে তো শাহবাগের মোড় থেকেই বাসে উঠতাম, এখন অনেক দূর হেঁটে গিয়ে আজিজ মার্কেটের সামনে থেকে উঠতে হয়। রাস্তায় দীর্ঘ যানজট। এক ঘন্টা ধরে দাঁড়িয়ে আছি বাসের দেখা নেই। বিস্তারিত পড়ুন

কাশফুল

গল্পঃ কাশফুল কন্যা

১. নেয়ামতপুর গ্রামের গল্প। এটি বাংলাদেশের আর পাঁচ দশটা গ্রামের মত নয়। ভারতীয় সীমানা ঘেঁষে এর অবস্থান। উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগে নি। মানুষগুলো খুবই সাধা-সিধা, সহজ-সরল। এক জনের হাড়িতে চাল না থাকলে, আরেক জন যতটুকু পারে সাহায্য করে। এক জনের দুঃখে আরেক জন এগিয়ে আসে। এক জনের আনন্দ সবাই মিলে উপভোগ করে। মানুষগুলো সবাই কমবেশি অভাবি, কিন্তু সুখি। বিস্তারিত পড়ুন

গল্পঃ জননী ও একজন মাওলানা মতি

১. লোকটি মাওলানা মতি। মুখে ছোট ছোট কাঁচা পাকা দাড়ি, মাথায় জিন্নাহ টুপি। সন্ধ্যা হলেই সফেদ পাঞ্জাবীর উপর জিন্নাহ কোট চাপিয়ে, হারকিউলিক্স ব্রান্ডের নতুন সাইকেলখানা চালিয়ে অক্লান্ত ছুটে চলেন এক পাকি ক্যাম্প থেকে আর এক ক্যাম্পে। পেল্লাই পেল্লাই গোঁফওয়ালা খানসাহেবদের সাথে কী সব সলাপরামর্শ করেন। মাঝে মাঝে হো হো শয়তানী হাসিতে কেঁপে উঠে টেবিলখানা। চক চক করে উঠে মাওলানা মতির দুই চোখ। দুই হাতের তালু কচলাতে কচলাতে তাজিমের সাথে বিদায় নিয়ে ফিরে আসেন তিনি। নিঃশব্দে ছুটে চলে হারকিউলিক্স ব্রান্ডের নতুন সাইকেলখানা। আল বদর বাহিনীতে নাম লেখানোর পর এই সাইকেলখানা পেয়েছেন মাওলানা মতি। আরো পেয়েছেন একখানা পাঁচ ব্যাটারিওয়ালা টর্চলাইট আর একখানা থ্রি নট থ্রি রাইফেল। নিঃশব্দে ছুটে চলে তার সাইকেলখানা। পাঁচ ব্যাটারিওয়ালা টর্চলাইটের বিদীর্ণ আলোয় বড় ভয়ংকর লাগে তার মুখের অবয়বটা। বিস্তারিত পড়ুন