জহির রায়হান

জহির রায়হান

প্রথম প্রথম কাউকে মরতে দেখলে ব্যথা পেতাম। কেমন যেন দুর্বল হয়ে পড়তাম। কখনও চোখের কোণে একফোঁটা অশ্রুও হয়ত জন্ম নিত। এখন অনেকটা সহজ হয়ে গেছি। কী জানি, হয়ত অনুভূতিগুলো ভোঁতা হয়ে গেছে। তাই মৃত্যুর খবর আসে। মরা মানুষ দেখি। মৃতদেহ কবরে নামাই। পরক্ষণে ভুলে যাই।

রাইফেলটা কাঁধে তুলে নিয়ে ছোট্ট টিলাটার ওপরে এসে দাঁড়াই। সামনে তাকাই। বিরাট আকাশ। একটা লাউয়ের মাচা। কচি লাউ ঝুলছে। বাতাসে মৃদু দুলছে। কয়েকটা ধানক্ষেত। দুটো তালগাছ। দূরে আর একটা গ্রাম…….

এই লাইনগুলো জহির রায়হানের গল্প “সময়ের প্রয়োজনে” থেকে নেয়া। মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা এই গল্পে কী সুনিপুণভাবে তুলে ধরেছেন সেই রক্তঝরা দিনগুলোর দৃশ্যকাব্য! এমনই সহজ, সাবলীল ও কাব্যময় উপস্থাপনায় চিরঞ্জীব তাঁর গল্প, উপন্যাস এবং চলচ্চিত্র। বিস্তারিত পড়ুন

সমকালীন বাংলা কমিউনিটি ব্লগ ভাবনা

বাংলা ব্লগের ইতিহাসঃ
বাংলা ভাষায় “বাঁধ ভাঙা আওয়াজ” স্লোগান নিয়ে প্রথম বাংলা কমিউনিটি ব্লগ “সামহোয়্যার ইন ব্লগের” যাত্রা শুরু।
২০০৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২৬ মিনিটে ব্লগার দেবরার “ইমরান ব্লগ স্রষ্টা” শিরোনামে প্রথম পোস্টের মাধ্যমে শুরু হয় বাংলা কমিউনিটি ব্লগের অগ্রযাত্রা।

“ইমরান তুমি একটা ভাল কাজ করেছ, হাসিন ভাই আপনাকেও ধন্যবাদ। আপনাদের জানাই আমাদের শুভু কামনা।”
এই দুই লাইন দিয়েই শুরু। মজার ব্যাপার পোস্টটিতে ১৮ ই জুলাই, ২০০৬ রাত ৮টা ০৭ মিনিটে প্রথম মন্তব্য পড়ে। মাঝখানে প্রায় সাত মাস! ব্লগার সারিয়া তাসনিমের মন্তব্য,” প্রথম পোস্ট অথচ মন্তব্য বিহীন ।
ভালো লাগছে প্রথম পোস্টে মন্তব্য করতে পেরে”।

“চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির” স্লোগান নিয়ে ২০০৭ সালের মে মাসে যাত্রা শুরু করে আরেকটি বাংলা কমিউনিটি ব্লগ “সচলায়তন”।

২২ অক্টোবর ২০০৮ সালে বাংলা কমিউনিটি ব্লগ জগতে আবির্ভাব হয় “প্রথম আলো ব্লগের”।
এভাবেই এগিয়েছে একটু একটু করে এগিয়ে চলেছে বাংলা ব্লগিং। কৈশোর পেরিয়ে রীতিমত যৌবনে পদার্পন। এখন অনেকটাই পরিনত হয়েছে বাংলা ব্লগিং। আমরাও ব্লগিং ধারনার সাথে নিজেদের একটু একটু করে গুছিয়ে নিয়েছি, মানিয়ে নিয়েছি।এই দীর্ঘ সময় পরে একটু যদি পিছন ফিরে তাকাই, গর্বে বুক ভরে যায় আমাদের। বাংলা ব্লগিংএ আমাদের অর্জন অনেক।অনেক অমিত সম্ভাবনা হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের। বিস্তারিত পড়ুন

ফিরে দেখা ২০০৯ (শেষ পর্ব)

আমরা পিছনে ফেলে এসেছি ২০০৯ সালের ঘটনাবহুল দিনগুলো। ২০১০ সালের প্রথম সোনালী সকাল খুব কাছে থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরনা হয়ে। আসুন তবুও একবার পিছনে ফিরে তাকাই, চোখ বুলিয়ে আসি একবার ফেলা আসা দিনগুলোয়।

প্রথম পর্ব ( জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, ২০০৯)


দ্বিতীয় পর্ব ( এপ্রিল, মে, জুন, ২০০৯)

তৃতীয় পর্ব ( জুলাই, আগস্ট, সেপ্টেম্বর, ২০০৯)

অক্টোবর, ২০০৯

০২ অক্টোবরঃ পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় যুদ্ধবিরোধী শান্তি শোভাযাত্রা নিউজিল্যান্ডের অরলিংটন শহর থেকে শুরু।
০২ অক্টোবরঃ ‘লিসবন চুক্তি’ গৃহীত বিষয়ে আয়ারল্যান্ডে গনভোট অনুষ্ঠিত হয়। গনভোটে ‘লিসবন চুক্তি’ গৃহীত হয়।
০৪ অক্টোবরঃ ‘মোবাইল কোর্ট আইন ২০০৯’ সংসদে পাস।
০৫ অক্টোবরঃ সারা বিশ্বে একযোগে প্রকাশিত হয় জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (UNDP) মানব উন্নয়ন প্রতিবেদন ২০০৯।
০৬ অক্টোবরঃ ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) বিল ২০০৯’ জাতীয় সংসদে পাস।
১০ অক্টোবরঃ লাহোরে দুই দিনব্যাপী গণমাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় নারী (SAWM) শীর্ষক সম্মেলন শুরু।
১০ অক্টোবরঃ সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ঐতিহাসিক চুক্তি স্বাক্ষর করে আর্মেনিয়া ও তুরস্ক।
১৩ অক্টোবরঃ ২৯তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত। বিস্তারিত পড়ুন

ফিরে দেখা ২০০৯ (তৃতীয় পর্ব)

আমরা পিছনে ফেলে এসেছি ২০০৯ সালের ঘটনাবহুল দিনগুলো। ২০১০ সালের প্রথম সোনালী সকাল খুব কাছে থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরনা হয়ে। আসুন তবুও একবার পিছনে ফিরে তাকাই, চোখ বুলিয়ে আসি একবার ফেলা আসা দিনগুলোয়।

প্রথম পর্ব ( জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, মার্চ, ২০০৯)

দ্বিতীয় পর্ব ( এপ্রিল, মে, জুন, ২০০৯)

জুলাই, ২০০৯

০১ জুলাইঃ ‘গনতন্ত্রায়নে উচ্চশিক্ষা’ প্রতিপাদ্য নিয়ে পালিত হয় ৮৯তম ঢাকা বিশ্ববদ্যালয় দিবস।
০২ জুলাইঃ আফগানিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হেলমান্দ প্রদেশে ‘খঞ্জর’ নামে তালেবান বিরোধী অভিযান শুরু করে মার্কিন-আফগান যৌথবাহিনী।
০৪ জুলাইঃ ওএএস হন্ডুরাসের সদস্যপদ স্থগিত করে।
০৭ জুলাইঃ কিংবদন্তী পপ শিল্পী মাইকেল জ্যাকসনের শেষকৃত্য সম্পন্ন।
১০ জুলাইঃ প্রথম আফ্রিকান দেশ হিসেবে ঘানা সফর করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

১৩ জুলাইঃ বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয়; বিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
১৫ জুলাইঃ মিশরের লোহিত সাগর তীরবর্তী পর্যটন নগরী শারম আল শেখে দুই দিনব্যাপী ন্যাম শীর্ষ সম্মেলন শুরু। বিস্তারিত পড়ুন

ফিরে দেখা ২০০৯ (দ্বিতীয় পর্ব)

আমরা পিছনে ফেলে এসেছি ২০০৯ সালের ঘটনাবহুল দিনগুলো। ২০১০ সালের প্রথম সোনালী সকাল খুব কাছে থেকে হাতছানি দিয়ে ডাকছে আমাদের এগিয়ে যাবার অনুপ্রেরনা হয়ে। আসুন তবুও একবার পিছনে ফিরে তাকাই, চোখ বুলিয়ে আসি একবার ফেলা আসা দিনগুলোয়।

প্রথম পর্ব ( জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ, ২০০৯)

এপ্রিল, ২০০৯

০১ এপ্রিলঃ ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু করেন দেশটির দেশটির কট্টর ডানপন্থী দল লিকুদ পার্টি নেতা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
০১ এপ্রিলঃ ন্যাটো আনুষ্ঠানিকভাবে আলবেনিয়া ও ক্রোয়েশিয়াকে সদস্যপদ প্রদান করে।

০২ এপ্রিলঃ দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যানের পদ থেকে পদত্যাগ করেন লে. জেনারেল (অব) হাসান মশহুদ চৌধুরী।
০২ এপ্রিলঃ বিশ্বের শিল্পায়িত ও শক্তধর দেশগুলোর ফোরাম ‘গ্রুপ টুয়েন্টি’ (জি ২০) এর দ্বিতীয় শীর্ষ সম্মেলন শুরু হয় লন্ডনের ডক্সল্যান্ড এক্সেল সেন্টারে।
০৩ এপ্রিলঃ সুনামগঞ্জে শুরু হয় দুই দিনব্যাপী শাহ আব্দুল করিম উৎসব।
০৪ এপ্রিলঃ দেশের ৩০ ও ৩১তম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।
০৬ এপ্রিলঃ উপজেলা চেয়ারম্যানদের সীমিত ক্ষমতা এবং সংসদ সদস্যদের নিরুঙ্কুশ ক্ষমতা দিয়ে বহুল আলোচিত উপজেলা পরিষদ (রহিত আইন পুনঃপ্রচলন ও সংশোধন) বিল ২০০৯ জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতভাবে পাস হয়। বিস্তারিত পড়ুন

শুভ বড়দিন

“যারা তোমাদের জুলুম করে তাদের ক্ষতি চেয়ো না বরং ভাল চেয়ো। যারা আনন্দ করে তাদের সঙ্গে আনন্দিত হও; যারা কাঁদে তাদের সঙ্গে কাঁদ। তোমাদের একের প্রতি অন্যের মনভাব যেন একই রকম হয়।……” রোমীয় ১২:১৪-১৬

আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছরেরও অধিক আগে খ্রিস্টপুর্ব ৭-২ সালে মহামানব মানবদরদী ঈসা মাসীহ জন্ম গ্রহন করেন বেথেলহামের এক জীর্ণ গোশালায়। স্বর্গবাসী হন মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ৩০ খ্রিস্টাব্দে। তিঁনি সারাটা জীবন মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। উর্ধে তুলে ধরতে চেয়েছেন মানব আত্নার শ্রেষ্ঠত্বকে। মানুষে মানুষে বাঁধতে চেয়েছেন প্রেমের বাঁধনে। যেখানেই মানুষ কষ্টে আছে, রোগে শোকে আছে, কুঃসংস্কারে পড়ে আছে, তিঁনি ছুটে গেছেন সেখানেই। বিস্তারিত পড়ুন

আজ মুহম্মদ জাফর ইকবাল স্যারের শুভ জন্মদিন


২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারীর কথা। আমার তখন প্রথম বর্ষের সমাপনী পরীক্ষা চলছিল।হলে থাকি।রাত জেগে পড়ার কারনে ঘুম থেকে উঠতাম বেশ বেলা করে। সকালের খাবার খেতে খেতে ১১টা বাঁজতো। সেদিন সম্ভবত ছিল শুক্রবার। প্রতিদিনের মত পুকুরপাড়ের দোকানগুলোতে গিয়েছি সকালের খাবার খেতে। চোখে তখনও ঘুম ঘুমভাব। একেবারে কোণার দোকানটার বেঞ্চে সাত আট জন বাচ্চা ছেলে মেয়ে আর দুই জন মধ্যবয়সী পুরুষ ও মহিলা বসে গল্প করছিল। হাসিতে আনন্দে বেশ জমে উঠেছিল আড্ডাটা। হঠাৎ একটা পিচ্চি মেয়ে গান গেয়ে উঠলো, “আলো আমার আলো ভুবন ভরা……”। আমি খুব মুগ্ধ হয়ে তাকালাম সেই আড্ডার মানুষগুলোর দিকে। লোকটার দিকে ভালো করে তাকাতেই আমার চোখ আটকে গেল। খুব মায়াবী সৌম চেহারা। কোথায় যেন দেখেছি। জাফর ইকবাল স্যারের মত লাগছে না? নিজেকেই প্রশ্ন করি। তাই তো, স্যারই তো! নিজের হাতে চিমটি কেটে দেখি, আমি কি এখনো ঘুমোচ্ছি? না, জেগেই আছি।পাশের জন নিশ্চয় ইয়াসমিন আপা। খুব ইচ্ছে করছিল স্যারের সামনে যাই। সালাম দিয়ে আসি। আবার ভয়ও করছিল, অতবড় মানুষ। কী ভাববে? মনকে যতই বুঝাই, না মন মানতে চায় না। মনে দ্বিধা নিয়ে গুটি গুটি পায়ে স্যারের সামনে গেলাম। সালাম দিলাম। বললাম, স্যার কেমন আছেন? স্যার খুব সুন্দর করে হাসলেন। স্যারের এই হাসিটা আমার অনেক পরিচিত। তাঁর বইয়ের মলাটের পিছনে কত দেখেছি! খুব ইচ্ছে করছিল স্যারকে একটু ছুঁইয়ে দেখি। স্যার বললেন, আমি ভালো আছি। তুমি কেমন আছো? আমার চোখে জল চলে আসতে চাইছিল। অনেক কষ্টে আটকালাম। কী পবিত্র মানুষটা! কত সহজে মানুষকে আপন করে নেয়। স্যারের সাথে কয়েকটা কথা বলে চোখের জল লুকোনোর জন্য একরকম পালিয়ে আসলাম। দূরের একটা বেঞ্চিতে বসে স্যারকে দেখলাম। তাঁর উচ্ছলতা, সরলতা, শিশুদের জন্য মায়া আমাকে খুব মুগ্ধ করছিল। স্যার যতখন সেখানে ছিল, আমিও ছিলাম। এরপর স্যার তাঁর পিচ্চি বাহিনী নিয়ে কার্জন হলের দিকে আগালো। আমি চেয়ে রইলাম, যতখন তাঁদের দেখা যায়। বিস্তারিত পড়ুন

শুভ বিজয় দিবস, ২০০৯

আর কিছুক্ষন পরেই পুর্বাশার আলো ফুটতে শুরু করবে। একটু একটু করে পথে নামবে মানুষ। মেয়েরা শাড়ী পড়বে, ছেলেরা পড়বে পাঞ্জাবি পায়জামা। শিশুরা সুন্দর সুন্দর পোষাক পড়ে নির্মল আনন্দ নিয়ে পথে নামবে বড়দের সাথে। কেউ কেউ ফুলের মত নিষ্পাপ মুখখানায় জাতীয় পতাকা আঁকবে। অনেকের হাতেই থাকবে প্রিয় জাতীয় পতাকা।

অন্য দিনটার চেয়ে আজকের দিনটা বাঙালিদের কাছে আলাদা। আজকে আমাদের আবেগের দিন। আজকে আমাদের আনন্দের দিন। আজ থেকে ৩৮ বছর আগে এমন একটি সকালে আমরা পেয়েছিলাম আমাদের প্রিয় পতাকা, প্রিয় স্বাধিনতা। ওই দূর থেকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন কানে বাজঁছে। কত বার শুনেছি এই ভাষনটা। প্রতিবারই আমার কাছে নতুন মনে হয় কথাগুলো। মনে হয় সুমধুর কোন শিল্পী গাইছে তার অমর কোন গান। খুব আগ্রহ নিয়ে আমি শুনি মহাকবির এই অমর কবিতাখানি। আমি যেন ভেসে যাই অগ্নিঝরা সেই দিনগুলোয়। নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাবতে ইচ্ছে করে। বিস্তারিত পড়ুন