(১৯৭১ সালে পাকিস্তানের পরাজয়ের কারন অনুসন্ধানে গঠিত হামূদুর রহমান কমিশনের আংশিক রিপোর্ট পাকিস্তানে ২০০১ সালে সরকারিভাবে প্রকাশিত হয় (এই সম্পর্কিত আমার পূর্বের পোস্টটি দেখুন)।এটি প্রকাশিত হবার পর থেকেই পাকিস্তানের অভ্যন্তরে ১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধ ও গনহত্যা ও পাকিস্তানের ভাঙনের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনার জন্য জন-সাধারনের চাপ বাড়তে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালে যুদ্ধের সময় তৎকালীন পাকিস্তান ইস্টার্ন কমান্ডের কমান্ডার, লেফটেনান্ট জেনারেল আমীর আব্দুল্লাহ খান নিয়াজি ২০০১ সালের ডিসেম্বর মাসে rediff.com এর মালিকানাধীন সর্বাধিক প্রচারিত ইন্দো-আমেরিকান সংবাদপত্র India Abroad এ একটি সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। বিস্তারিত পড়ুন
Category Archives: মুক্তিযুদ্ধ
একাত্তরে সংগঠিত যুদ্ধাপরাধঃ হামুদুর রহমান কমিশন রিপোর্ট
১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি পাকিস্তানের প্রধাণ বিচারপতি হামুদুর রহমানকে প্রধান করে “The War Inquiry Commission” গঠন করেন। এই কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান কেন যুদ্ধে পরাজিত হল ও পূর্ব পাকিস্তানকে হারালো, তার কারণ অনুসন্ধানের জন্য।
কমিশন তিনশ প্রত্যক্ষদর্শীর স্বাক্ষ্য ও যুদ্ধের সময় পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানে সেনাবাহিনী কর্তৃক আদান-প্রদানকৃত গোপনীয় তথ্যগুলো পরিক্ষা করে দেখেন। কমিশন সর্ব বিস্তৃত স্বেচ্ছাচারীতা, জেনেরেলদের ক্ষমতার অপ-ব্যবহার, বেসামরিক নেতৃত্বের সম্পূর্ণ ব্যর্থতা ও সামরিক শাসকদের নেতৃত্বকেই পাকিস্তান ভাঙার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এই রিপোর্টে যুদ্ধাপরাধের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা দেখে শিউরে উঠতে হয়। স্বভাবতই তিনি অনেক তথ্য চেপে গিয়েছেন; তারপরও একজন পাকিস্তানী নাগরিকের চোখে যে তথ্যগুলো উঠে এসেছে, বাস্তব অবস্থা আরো কত ভয়ঙ্কর ছিলো তা সহজেই অনুমেয়। বিস্তারিত পড়ুন
বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা ও প্রামাণ্য কিছু দলিল
মীর জাফর, ঘষেটি বেগম গংদের ষড়যন্ত্রের কারনে বাংলার শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজ উদ্দৌলার পরাজয়ের মাধ্যমে ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর আম্রকাননে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয় ব্রিটিশ বেনিয়াদের কাছে। সেই ২৩ জুন থেকেই আবার শুরু হয় চির স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের প্রতিরোধ সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। ১৮৫৭ সালের সিপাহী বিদ্রোহ, নীল বিদ্রোহ, ফরায়েজী আন্দোলন, শহীদ তিতুমীরের বাঁশের কেল্লা নির্মান করে প্রতিরোধ যুদ্ধ, ১৯৪৭ সালের ভারত-ভাগ, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ১৯৬৬ এর ছয় দফা, ১৯৬৯ এর গন-অভ্যুত্থান, ১৯৭০ এর নির্বাচনে বিজয়, ১৯৭১ এর রক্তঝরা মার্চের অসহযোগ আন্দোলন, ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ, ২৫ মার্চের গন-হত্যা ও ইপিআরের প্রতিরোধ; এভাবেই ধাপে ধাপে এগিয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম। বিস্তারিত পড়ুন
গনহত্যাঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৭১
৫২ এর ভাষা আন্দোলন, ৫৪ এর যুক্তফ্রন্টের বিজয়, ৬৬ এর ছয়দফা আন্দোলন, ৬৮ এর আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা বিরুদ্ধে সর্বদলীয় ছাত্রসংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন, ৬৯ এর গন অভ্যুথ্থান, ৭০ এর নির্বাচনে বিজয়, ৭১ এর অগ্নিঝরা মার্চের অসহযোগ আন্দোলনসহ সকল গন্তান্ত্রিক এবং স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রাণকেন্দ্র ছিল আমাদের প্রিয় এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তাই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে বাঙালিদের দমনের অভিযান অপারেশন সার্চ লাইট শুরু হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আক্রমনকারী পাকিস্তান বাহিনীতে ছিল ১৮ নং পাঞ্জাব, ২২ নং বেলুচ, এবং ৩২ নং পাঞ্জাব রেজিমেন্টের বিভিন্ন ব্যাটেলিয়ন। ২৫ মার্চের রাত থেকে ২৭ মার্চ সকাল পর্যন্ত এ বিশেষ মোবাইল বাহিনী স্বয়ংক্রিয় রাইফেল, ট্যাংক বিধ্বংসী বিকয়েললস রাইফেল, রকেট লাঞ্চার মার্টার ভারি ও হালকা মেশিনগানে সজ্জিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে ফেলে। পশ্চিম দিক থেকে রেললাইন জুড়ে ৪১ ইউনিট, দক্ষিণ দিক জুড়ে ৮৮ ইউনিট এবং উত্তর দিক থেকে ২৬ ইউনিট কাজ শুরু করে। শুরু হয় বিশ্বের মানব ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়ানক ও ভয়ংকর গনহত্যা। তারা একে একে হত্যা করে আমাদের দেশের সূর্য সন্তান আমাদের শিক্ষক, আমাদের ছাত্রদের। এখনেই শেষ হয়ে যায় নি ইতিহাসের ঘৃণ্য এই গনহত্যা। ডিসেম্বরের মাঝামাঝি যখন আমাদের স্বাধীনতার সূর্য উদীয়মান, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার, আল বদর, আল শামছরা শুরু করে দ্বিতীয় দফা গনহত্যা। ১৪ ডিসেম্বর তারা আমাদের জাতিকে মেধাশুন্য করার মানসে একে একে বাসা থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করে আমাদের শিক্ষক, সাংবাদিক ও বুদ্ধিজীবী সূর্যসন্তানদের। বিস্তারিত পড়ুন