রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

শত বর্ষে গীতাঞ্জলি

অনেকটা নিরবেই শতায়ু হতে চলেছে কবিগুরুর অমর এই সৃষ্টি।গীতাঞ্জলিকে ঘিরে বাংলা সাহিত্যে যতটা উচ্ছাস, আলোচনা ও গবেষনা হয়েছে ও হচ্ছে, অন্য কোনো গ্রন্থ নিয়ে এতটা আর হয় নি।শত বর্ষ পরেও গীতাঞ্জলির প্রতিটি গান/কবিতা একই রকম আবেদন সৃষ্টি করে।এক অদৃশ্য টানে পাঠককে মোহিত করে!এই অদৃশ্য টানের মূল সুর ঈশ্বর প্রেম, ঈশ্বরস্বত্তায় নিজেকে বিলীন করা, ঈশ্বরের মাঝে নিজেকে নিঃশর্ত আত্নসমর্পন!গীতাঞ্জলির মূল সুর ইশ্বরমুখিতা হলেও তা কোনো সম্প্রদায়-বিশেষের নয়।বিশ্বের বিশালতা ও প্রকৃতির সৌন্দর্য থেকে উৎসারিত এক আধ্যাত্নবোধের সঙ্গে এই বিশ্বাসযুক্ত।

গীতাঞ্জলি কবিগুরুর ১৫৭টি গান/কবিতার সংকলন।গানগুলি রচিত হয় ১৯০৮-০৯ সালে এবং শান্তিনিকেতন থেকে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয় আগস্ট,১৯১০ (ভাদ্র,১৩১৭ বঙ্গাব্দ) খৃস্টাব্দে। বিস্তারিত পড়ুন

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্য

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন মধ্যযুগে রচিত বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য গ্রন্থ। এটিই প্রথম বাংলায় রচিত কৃষ্ণকথা বিষয়ক কাব্য। মনে করা হয়, এই গ্রন্থের পথ ধরেই বাংলা সাহিত্যে বৈষ্ণব পদাবলির পথ সুগম হয়। রাধা-কৃষ্ণের প্রেম কাহিনী মানবীয়ভাবে উঠে এলেও, মূলত রাধা-কৃষ্ণকথার আড়ালে ঈশ্বরের প্রতি জীবকুলের মিলনের চরম আকুলতা প্রকাশিত হয়েছে এই কাব্যে। শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের প্রধান চরিত্র তিনটি। কৃষ্ণ, রাধা, বড়ায়ি। কৃষ্ণ পরমাত্না বা ঈশ্বরের প্রতীক, রাধা জীবাত্না বা প্রাণিকুলের প্রতীক ও বড়ায়ি এই দুইয়ের সংযোগ সৃষ্টিকারী অনুঘটক।

আবিষ্কার ও নামকরণঃ
চর্যাপদের পর ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ বাংলা ভাষার দ্বিতীয় প্রাচীনতম আবিষ্কৃত নিদর্শন। ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে (১৩১৬ বঙ্গাব্দ) কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক এবং পুথিশালার অধ্যক্ষ বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ পশ্চিমবঙ্গের বাঁকুড়া জেলার কাকিল্যা গ্রামে জনৈক দেবেন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়ের বাড়ির গোয়ালঘর থেকে শ্রীকৃষ্ণকীর্তনের পুথি আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ) বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে বসন্তরঞ্জন রায়ের সম্পাদনায় পুথিটি ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ নামে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। বিস্তারিত পড়ুন

মনসামঙ্গল কাব্য

মঙ্গল কাব্যধারার সবচেয়ে জনপ্রিয় কাব্য মনসামঙ্গল। সর্পদেবী মনসার মাহাত্ন্য, স্তুতি ও কাহিনি নিয়ে রচিত মনসামঙ্গল। একে মনসাবিজয় বা পদ্মপুরাণ নামেও অভিহিত করা হয়। আবহমান কাল থেকেই বাংলাদেশ নদীনালা, খালবিল, জলাশয়ে ভরা। গ্রাম বাংলার সর্প ভয়ে ভীত সাধারণ মানুষের কাছে মনসামঙ্গল শ্রী চৈতন্যপূর্ব যুগ থেকেই ব্যপকভাবে সমাদৃত। চাঁদ সওদাগরের প্রথম দিকে মনসা বিরূপতা, পরে মনসা দেবীর অলৌকিক শক্তির প্রভাব স্বীকার করে তার বশ্যতা মেনে পূজো দেওয়াই এই কাব্যের প্রধান আখ্যান হলেও, এর মাঝে বাংলার প্রাকৃতিক জীবন, লৌকিক জীবনাচার উঠে এসেছে। চাঁদ সওদাগর, বেহুলা, লখিন্দর যেন আমাদের খুব কাছের কেউ, আমাদেরই একজন। চাঁদ সওদাগরের পুত্র বাৎসল্য, বেহুলার পতিপ্রেম অতি মানবীয়ভাবে উঠে এসেছে এই কাব্যে।

কানা হরিদত্ত মনসামঙ্গল কাব্যের আদি কবি। এছাড়াও বিজয়গুপ্ত, বিপ্রদাস পিপিলাই, দ্বিজ বংশীদাস, কেতকাদাস ক্ষেমানন্দ প্রমুখ মনসামঙ্গল কাব্য রচনা করেছেন। বিস্তারিত পড়ুন

অন্নদামঙ্গল কাব্য

১.
আমার সন্তান যেন থাকে দুধে ভাতে।

২.
নগর পুড়িলে কি দেবালয় এড়ায়।

৩.
মন্ত্রের সাধন কিংবা শরীর পাতন।

৪.
বড়র পিরীতি বালির বাঁধ,
ক্ষনে হাতে দড়ি ক্ষনেকে চাঁদ।

৫.
অতি বড় বৃদ্ধ পতি সিদ্ধিতে নিপুণ,
কোন গুন নাই তার কপালে আগুন।

৬.
না রবে প্রাসাদ গুন নাহবে রসাল,
অতএব কহি ভাষা যাবনী মিশান।

উপরের জনপ্রিয় উদ্ধৃতিগুলো কম বেশি আমরা সবাই জানি। এই উদ্ধৃতিগুলো মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের অমর সৃষ্টি মঙ্গল কাব্যধারার ‘অন্নদামঙ্গল কাব্য’ থেকে নেওয়া। মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ কবি, নাগরিক কবি ভারতচন্দ্রঁ রায়গুনাকরের অসাধারন শিল্পকর্ম এই অন্নদামঙ্গল কাব্য। বিস্তারিত পড়ুন

চর্যাপদ

বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ। তবে অসমীয়া ও উড়িয়া ভাষার সাথে অনেক মিল থাকায়, অসমীয়া এবং উড়িয়া ভাষারও আদি নিদর্শন হিসেবে দাবী করেন অনেক ভাষা পন্ডিত। একে চর্যাচর্যবিনিশ্চয়, চর্যাগীতিকোষ বা চর্যাগীতি নামেও অভিহিত করা হয়। এটা আসলে একটা গানের সংকলন। বৌদ্ধ ধর্মমতে এর বিষয়বস্তু সাধন ভজনের তত্ত্ব প্রকাশ। চর্যাপদের তিব্বতীয় ভাষার অনুবাদটি ‘Tibetan Buddhist Canon’ বা ‘তিব্বতীয় বৌদ্ধ ধর্মগ্রন্থ’ হিসেবে সংরক্ষিত।

মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ খ্রিস্টাব্দে নেপালের রয়েল লাইব্রেরী থেকে চর্যাপদ আবিষ্কার করেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতার বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ থেকে এটি আধুনিক লিপিতে প্রকাশিত হয় ‘হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষার বৌদ্ধগান ও দোহা’ নামে মহামহোপাধ্যায় হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর সম্পাদনায়। এর রচনাকাল সম্পর্কে মতভেদ আছে। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে ৬৫০ খ্রিস্টাব্দে, ডঃ সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে ৯৫০ থেকে ১২৫০ খ্রিস্টাব্দের মধ্যে এর পদগুলো রচিত হয়। সুকুমার সেন সহ বাংলা সাহিত্যের প্রায় সব পন্ডিতই ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়কে সমর্থন করেন।

চর্যাপদের কবির সংখ্যা ২৩, মতান্তরে ২৪। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ সম্পাদিত ‘Buddhist Mystic Songs’ গ্রন্থে ২৩ জন কবির নাম আছে। সুকুমার সেন ‘বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস (১ম খন্ড)’ গ্রন্থে ২৪ জন কবির কথা বলেছেন। চর্যাপদের কবিরা আসাম, বাংলা, উড়িষ্যা ও বিহার থেকে এসেছেন বলে ধারনা করা হয়। বিস্তারিত পড়ুন