ও হেনরীর ছোট গল্প – বিশ বছর পরে

পেশাগত গাম্ভীর্য নিয়ে পুলিশ অফিসারটি তাঁর টহল পথে পা ফেলে এগিয়ে চলেছে। মানুষকে দেখানোর জন্য নয়, এই গাম্ভীর্যটা তাঁর অভ্যেস, কেননা আশেপাশে দেখবার মতো তেমন কেউ ছিল না। সময় বেশি হয় নি, বড় জোর রাত দশটা, কিন্তু তীব্র আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া আর হালকা বৃষ্টির জন্য রাস্তাটা জনশূণ্য হয়ে পড়েছে।

পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক একটা দরজা পরখ করে দেখছিল সে, কখনো কখনো তাঁর হাতের লাঠিটি দুর্বোধ্য ও বেয়াড়াভাবে আন্দোলিত হচ্ছিল, ইতস্ততভাবে ঘাড় ফিরিয়ে সতর্ক দৃষ্টিতে দেখছলি প্রশান্ত রাজপথকে, তিনি অফিসার, তাঁর স্থিরপ্রতিজ্ঞ মূর্তি ও মৃদু হামবড়াভাব সব মিলিয়ে শান্তির দেবদূতের সুন্দর একটা প্রতিচ্ছবি যেন ফুটে উঠেছে। মাঝে মাঝে দুই একটা চুরুট স্টোর বা সারা রাত্রী খোলা খাবারের দোকানের আলো চোখে পড়ে, কিন্তু অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে অধিকাংশ ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানের দড়জা। বিস্তারিত পড়ুন

ও. হেনরীর ছোট গল্প : দি লাস্ট লিফ

ওয়াশিংটন স্কয়ারের পশ্চিমে এক ছোট জেলা, যেখানে রাস্তাগুলো অনিরাপদভাবে ছুটে চলেছে এবং ভেঙে ভেঙে নিজেদের ভিতরে ছোট ছোট ‘গলি’ তৈরী করেছে। এই গলিগুলোতে গড়ে উঠেছে অদ্ভুত সব কোণা কানছি আর বাঁক। একটি রাস্তা নিজের উপর দিয়ে এক দুইবার করে অতিক্রম করে গেছে। একবার এক চিত্রশিল্পী এই রাস্তাটির মাঝে এক মূল্যবান সম্ভাবনা আবিষ্কার করে বসলেন। মনে করুন, একজন সংগ্রাহক রঙ, কাগজ এবং ক্যানভাসের জন্য বিল সাথে নিয়ে এই পথের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে, হঠাৎকরে দেখল সে আগের জায়গায়ই ফিরে এসছে, এর জন্য তাকে এক পয়সাও খরচ করতে হয় নি!

তাই, চিত্রশিল্পীরা খুব তাড়াতাড়ি ঘুরতে ঘুরতে এই অদ্ভুত পুরনো গ্রিনিচ গ্রামে চলে এল, খুঁজে বের করল উত্তর দিকের জানালাসহ আঠার শতকের পুরনো গ্যাবল (ডাচ গ্যাবল জ্যাকোবিয়ান সময়ের ইংল্যান্ডের বিশেষ স্থাপত্যের বাড়ী), কম ভাড়ায় এক ডাচ চিলেকোঠা। এরপর তাঁরা ছয় নম্বর এভিনিউ থেকে রান্না করা ও খাবার গরম রাখার জন্য চুল্লিযুক্ত দুই একটি পাত্র এবং কিছু পিউটর মগ নিয়ে এসে এখানে কলোনি গড়ল। বিস্তারিত পড়ুন

ও. হেনরীর ছোট গল্প : দি গিফট অব দি মেজাই

এক ডলার সাতাশি সেন্ট। এটুকুই সব। এর মধ্যে ষাট সেন্ট আছে পেনিতে। একেক সময়ে একটি দুইটি করে পেনি বাঁচানো হয়েছে মুদি দোকানী, সবজী বিক্রেতা আর কশাইয়ের সাথে তীব্র দর কশাকশি করে, এমন করেই পুঙ্খানুপুঙ্খ লেনদেন চলেছে সব সময়, যতক্ষন পর্যন্ত না মনে মনে কৃপণ ঠাওরে তাদের মুখ আরক্তিম হয়ে উঠেছে। ডেলা তিনবার গুনে দেখেছে। এক ডলার সাতাশি সেন্ট। অথচ পরের দিন ক্রিসমাস।

মলিন ছোট আরাম কেদারাটার উপর এগুলো ছুড়ে ফেলে চিৎকার করে কান্না কাটি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। ডেলা তাই করল। এটা মানুষের নৈতিক অভিব্যক্তিকে এমনভাবে প্ররোচিত করে যেন, জীবনটা ফুঁপিয়ে কাঁদা, দীর্ঘ শ্বাস আর মৃদু হাসির সম্মিলনে গড়া, যেখানে দীর্ঘ শ্বাসটাই বেশি প্রবল। বিস্তারিত পড়ুন