আম আঁটির ভেঁপু

নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো…

শুভ বিজয় দিবস, ২০০৯

আর কিছুক্ষন পরেই পুর্বাশার আলো ফুটতে শুরু করবে। একটু একটু করে পথে নামবে মানুষ। মেয়েরা শাড়ী পড়বে, ছেলেরা পড়বে পাঞ্জাবি পায়জামা। শিশুরা সুন্দর সুন্দর পোষাক পড়ে নির্মল আনন্দ নিয়ে পথে নামবে বড়দের সাথে। কেউ কেউ ফুলের মত নিষ্পাপ মুখখানায় জাতীয় পতাকা আঁকবে। অনেকের হাতেই থাকবে প্রিয় জাতীয় পতাকা।

অন্য দিনটার চেয়ে আজকের দিনটা বাঙালিদের কাছে আলাদা। আজকে আমাদের আবেগের দিন। আজকে আমাদের আনন্দের দিন। আজ থেকে ৩৮ বছর আগে এমন একটি সকালে আমরা পেয়েছিলাম আমাদের প্রিয় পতাকা, প্রিয় স্বাধিনতা। ওই দূর থেকে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষন কানে বাজঁছে। কত বার শুনেছি এই ভাষনটা। প্রতিবারই আমার কাছে নতুন মনে হয় কথাগুলো। মনে হয় সুমধুর কোন শিল্পী গাইছে তার অমর কোন গান। খুব আগ্রহ নিয়ে আমি শুনি মহাকবির এই অমর কবিতাখানি। আমি যেন ভেসে যাই অগ্নিঝরা সেই দিনগুলোয়। নিজেকে একজন মুক্তিযোদ্ধা ভাবতে ইচ্ছে করে।

গত বেশ কয়েক দিন ধরেই আমাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংঠনগুলো প্রস্তুতি নিচ্ছে আজকের দিনটাকে কেন্দ্র করে। কত আয়োজন, কত উচ্ছাস। শিশু, যুবা, বৃদ্ধ সব বয়সের সব পেশার মানুষেরা আজ আসবে আমাদের এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সারাদিন ঘুরবে, গান গাইবে, হৈ হুল্লোড় আনন্দ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি কোণায় আজ থাকবে আনন্দের ছড়াছড়ি। সবাইকে জানাই মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা, শুভ বিজয় দিবস।

না, এই খানেই লেখাটা শেষ করতে পারছি না। গতকাল প্রথম আলোতে (১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯) ছিল শুধু সব মন খারাপ করা খবর। কাল সারারাত একটুও ঘুমাতে পারি নি। আজ এই মহান বিজয় দিবসে যদি সব খবরগুলোকে পাল্টে ফেলতে পারতাম।

যুদ্ধাপরাধের বিচার এখনই হচ্ছে না। বিচার না করতে পাকিস্তানের তদবির। (প্রথম আলো,(১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯)। ছোট বেলায় একটা প্রবাদ পড়তাম, Justice delayed, justice denied। তবে কি যুদ্ধাপরাধী শয়তানদের বিচার এ দেশের মাটিতে হবে না? আবারো কি রাজাকার, আল বদর, আল শামসেরা বহুদামে কেনা এই জাতীয় পতাকা গাড়ীতে লাগিয়ে ঘুরবে।

বুদ্ধিজীবী হত্যাকান্ডে জামায়াতকে জড়ানো ন্যায়নীতির পরিপন্থী। আলোচনা সভায় মুজাহিদ।(প্রথম আলো,(১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯)। আমি হাসবো না কাদঁবো। ওরা কিভাবে সাহস পায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠান আয়োজনের?

বি এন পি কাউন্সিল করে তাদের গঠনতন্ত্র থেকে ৭ অনুচ্ছেদের ক উপধারা বাতিল করেছে। এই উপধাতায় বলা হয়েছিল, “১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতি আদেশ নং-৮-এ (দালাল আইন) দন্ডিত ব্যাক্তি জাতীয় কাউন্সিল, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, জাতীয় স্থায়ী কমিটি বা যে কোন পর্যায়ের যেকোন নির্বাহী কমিটির সদস্যপদ কিংবা জাতীয় নির্বাচনে দলের প্রার্থীপদের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবেন”। (প্রথম আলো,(১৫ ডিসেম্বর, ২০০৯)। সালাউদ্দীন কাদের চৌধুরীর মত চিন্হিত যুদ্ধাপরাধীকে স্থায়ী কমিটিতে স্থান দিয়ে এবং গঠনতন্ত্র থেকে ৭ অনুচ্ছেদের ক উপধারা বাতিল করে বি এন পি কী ইঙ্গিত দিতে চাইছে?

গত ২৯ ডিসেম্বর, ২০০৮ এর নির্বাচনে মহাজোট যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের নিরুঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে জয়লাভ করে ক্ষমতায় এসেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আপনি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যার বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। এইবার যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিন। আপনি ব্যর্থ হলে, ইতিহাস আপনাকে সেইভাবেই মুল্যায়ন করবে।

সবাইকে জানাই মহান বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা, শুভ বিজয় দিবস।

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

Information

This entry was posted on ডিসেম্বর 25, 2009 by in ফিচার and tagged .

নেভিগেশন

%d bloggers like this: