আম আঁটির ভেঁপু

নিন্দুকেরে বাসি আমি সবার চেয়ে ভালো…

শুভ বড়দিন

“যারা তোমাদের জুলুম করে তাদের ক্ষতি চেয়ো না বরং ভাল চেয়ো। যারা আনন্দ করে তাদের সঙ্গে আনন্দিত হও; যারা কাঁদে তাদের সঙ্গে কাঁদ। তোমাদের একের প্রতি অন্যের মনভাব যেন একই রকম হয়।……” রোমীয় ১২:১৪-১৬

আজ থেকে প্রায় দুই হাজার বছরেরও অধিক আগে খ্রিস্টপুর্ব ৭-২ সালে মহামানব মানবদরদী ঈসা মাসীহ জন্ম গ্রহন করেন বেথেলহামের এক জীর্ণ গোশালায়। স্বর্গবাসী হন মাত্র ৩৬ বছর বয়সে ৩০ খ্রিস্টাব্দে। তিঁনি সারাটা জীবন মানুষের মুক্তির জন্য কাজ করে গেছেন। উর্ধে তুলে ধরতে চেয়েছেন মানব আত্নার শ্রেষ্ঠত্বকে। মানুষে মানুষে বাঁধতে চেয়েছেন প্রেমের বাঁধনে। যেখানেই মানুষ কষ্টে আছে, রোগে শোকে আছে, কুঃসংস্কারে পড়ে আছে, তিঁনি ছুটে গেছেন সেখানেই।


এক জীর্ণ গোশালায় মহামানব ঈসা মাসীহের জন্ম

যথাসাধ্য ভুলিয়ে দিয়েছেন মানুষের কষ্ট, রোগ শোক থেকে মুক্তি দিয়েছেন, মানুষের কষ্ট দেখে কেঁদে উঠেছে তাঁর মহৎ অন্তঃপ্রাণ। মানুষকে তিঁনি ভালোবাসতেন নিজের সন্তানের মত করে। মানুষকে দেখিয়েছেন সত্যিকারের মুক্তির পথ।


বড়দিন উপলক্ষে বর্ণিল রঙে সাঁজে চারিদিক

মহামানব ঈসা মাসীয়ের জন্মকে উপলক্ষ করে সমগ্র বিশ্বে ২৫ ডিসেম্বর পালিত হয় Christmas Day বা বড়দিন। এই দিনে সমগ্র বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা তাঁর ভক্ত অনুরাগীরা তাঁকে শ্রদ্ধাভরে স্বরন করে। এই দিনকে উপলক্ষ করে মেতে উঠে এক স্বর্গীয় আনন্দে। ঘর-বাড়ি, দোকান, অফিস, চার্চগুলো সাঁজানো হয় বর্ণিল সাঁজে। ঝলমল করে Christmas গাছগুলো রঙীন আলোয়। মানুষ নতুন নতুন রঙ বেরঙের জামা কাপড় পড়ে। একে অপরের মাঝে মজার মজার উপহার বিনিময় করে। পরিবারের সবাই, বন্ধু বান্ধব, আত্নীয় স্বজন একসাথে হয়। গান, কবিতা, নাচ, হৈ-হুল্লোরে পৃথিবীতে যেন নেমে আসে স্বর্গ। কেউবা চার্চে বসে দোয়া করে নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, দেশের জন্য।


সান্তা ক্লজ বুড়োর সাথে শিশুরা

প্রতিটি আনন্দ উৎসবের কেন্দ্রে থাকে শিশুরা। শিশুরা তাদের হৈ-হুল্লোর, কোলাহল আর কলরবে পৃথিবীতে বয়ে আনে স্বর্গের সুখ। বড়দিনে শিশুদের আনন্দের বাড়তি উপলক্ষ হয়ে আসে সান্তা ক্লজ বুড়ো। তিঁনি শিশুদের নানান মজার মজার উপহার দিয়ে শতগুন বাড়িয়ে তোলে তাদের আনন্দ। মহামানব সেইন্ট নিকলাসকেই মনে করা সান্তা ক্লজ হিসেবে।


মহামানব সেইন্ট নিকলাসকেই মনে করা সান্তা ক্লজ হিসেবে।

আবহমান কাল ধরেই আমরা বাঙালিরা অসম্প্রদায়িক। বাংলার হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, বাংলার মুসলমান আমরা সবাই বাঙালি। আমরা সবাই একে অপরের ভাই। আমাদের কাছে ঈদ, পূজো, বৌদ্ধপূর্ণিমা, বড়দিন সবই সার্বজনীন উৎসব। যেকোন উৎসবেই আমরা মেতে উঠি অনাবিল আনন্দে।

এই বড়দিন উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় বেতার, টেলিভিশনসহ অন্যান্য বেসরকারী বেতার, টেলিভিশন প্রচার করবে নানা অনুষ্ঠান। সংবাদপত্রসমুহ বের করবে বিশেষ ক্রোড়পত্র। সপিংমল, চার্চগুলো সাঁজবে বর্ণালি সাঁজে।

বড়দিন উপলক্ষে সবাইকে জানাই আন্তরিক অভিবাদন। সবাইকে বড়দিনের শুভেচ্ছা। শুভ বড়দিন।

2 comments on “শুভ বড়দিন

  1. সাইফুজ্জামান খালেদ
    ডিসেম্বর 24, 2010

    শুভ বড়দিন।

    Like

আপনার মন্তব্য লিখুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

Information

This entry was posted on ডিসেম্বর 25, 2009 by in ফিচার and tagged .

নেভিগেশন

%d bloggers like this: